রাজাপুর প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে মাহিন্দ্রা ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বরিশাল-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে ক্লাব নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে স্থানীয়রা। আহতরা হলো উপজেলার গালুয়া দুর্গাপুরের আ. খালেক হাওলাদারের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৬০), মৃত তৈয়ব আলী হাওলাদারের পুত্র কাইয়ুম হাওলাদার (৪০), মো. নুরুল ইসলামের পুত্র জাহাঙ্গীর (৫২), হাইলাকাঠী গ্রামের মো. ওমর আলী হাওলাদারের পুত্র মো. বাবু হাাওলাদার (২০), ইন্দ্রপাশা গ্রামের মো. সমশের মোল্লার পুত্র মো. হানিফ মোল্লা (৩৫) ও বরিশালের গুঠিয়ার আ. হাই এর পুত্র হান্নান (৫৫)।
আহতরা প্রত্যেকেই হাত পা ভেঙ্গে ও মাথা কেটে গুরুতর আহত হয়ছে। আহত রোগীদের কাটা ছেঁড়া সেলাই করা ও ব্যান্ডেজের দায়িত্ব ডিউটিরত ডাক্তারের থাকলেও জরুরী বিভাগে অত্র হাসপাতালের টি এইচওর ড্রাইভার সোহাগ ও পিওন সোহাগ মিলে আহতদের কাটা ছেঁড়া জায়গা সেলাই ও ব্যন্ডেজ করিয়ে দেন। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী (স্যাকমো) মানিক হালদারকে আহতদের পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
আহতদের মধ্যে মোর্শেদা, হান্নান ও বাবুকে আশংকাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত রোগীর স্বজনরা জানায়, রোগীদের হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে এখানকার দুইজন মিলে সেলাই ও ব্যান্ডেজ করেন। পরে জেনেছি তারা এই হাসপাতালের ডাক্তার না, একজন ড্রাইভার ও একজন পিয়ন।
চিকিৎসা নিতে আসা আরও কয়েকজন রোগী জানান, এখানকার জরুরী বিভাগে ডাক্তাররা কখনোই আহত রোগীদের কাটা ছেঁড়ার সেলাই বা ব্যান্ডেজ করেননা। পিয়ন ড্রাইভারদের দিয়েই এ কাজটি করান স্যাকমো।
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা মূলত উপ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাই দিয়ে থাকেন । গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে কর্তব্যরত চিকিৎসকরাই কাটা ছেঁড়া ও সেলাইসহ প্রাথমিক চিকিৎসার কাজটি করবেন। সেখানে ড্রাইভার কিংবা অন্যান্যদের দিয়ে কাটা ছেড়া জায়গার যদি সেলাইয়ের মতো জটিল কাজটি করিয়ে কেই করিয়ে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।